বিরিয়ানি কিভাবে রান্না করে সহজ রেসিপি

ঘরোয়া বিরিয়ানি রেসিপি

বিরিয়ানি কিভাবে রান্না করে -বিরিয়ানি শব্দ টি শুনলে কার না জিভে জল আসে।বাচ্চা বয়স্ক তরুণ দের সকলের পচ্ছন্দের খাদ্য তালিকায় যে খাবার টি  রয়েছে সর্বপ্রথম তা হলো বিরিয়ানি।বিরিয়ানি অপচ্ছন্দ করবে এমন মানুষ খুজেই পাওয়া যাবেনা।এই পচ্ছন্দের খাবার টির উৎপত্তি আরবদের সময় থেকে।তারা যুদ্ধ যাওয়ার জন্য এমন খাবার এর খোজ করত যা সেনাদের শক্তি বাড়াবে।তার মানে বিরিয়ানি ছিল সেন্যদের শক্তি দায়ক খাবার।আরবদের হাত ধরে বিরিয়ানি আসে ভারতে।

সময়ের ধারায় এই বিরিয়ানি ছড়িয়ে পড়ে এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলো তে।বিরিয়ানির জনপ্রিয়তা ভারত বাংলাদেশ পাকিস্তান বেশি।কিন্তু যত বলা হোক না এটা আমরা দোকানের রেডিমিট মসলা দিয়ে সহজ করে বানাই। কিন্তু আমরা সেটা কখন মসলা কিনব এরপর বানাব।এছাড়াও হঠাৎ বিরিয়ানি খেতে মন চাচ্ছে বাসায় বিরিয়ানির মসলা নাই তখন সেটি আর বানানো সম্ভব না।কিংবা বানাতে হলে আমাদের দোকানে যেতে হবে মসলা কিনতে হবে।

আজ এমন একটি রেসিপি দিব যেটি দিয়ে উপকরণ গুলা বাসায় থাকলে যেকোনো সময় যেকোনো মূহুর্তে সকাল বিকাল রাত যখন মন চাই বানিয়ে নিতে পারবেন।হঠাৎ বাসায় অতিথি আসলে সহজেই বানিয়ে নেওয়া যাবে।কোন রূপ ঝামেলা কষ্ট পোহানো ছাড়া।দেরি না করে আগে জেনে নি বাসায় কি করে একবার মসলা বানিয়ে বারবার বিরিয়ানি বানিয়ে খাবেন।আর হ্যাঁ এই টা এমন একটি রেসিপি প্রিয়জন এর মন খুব সহজে জয় করে নিতে পারবেন।এই বিরিয়ানি টিই হবে আপনার পরিবারের সকলকে  ফিদা করার মত রেসিপি। দেরি না করে চলুন ঝটপট জেনে নি কিভাবে তৈরি করবেন এত মজাদার লোভনীয় বিরিয়ানির মসলা। এই ব্লগে আপনারা জানতে পারবেন:ঘরোয়া বিরিয়ানি রেসিপি,বিরিয়ানি মসলা তৈরি,বিরিয়ানি রেসিপি উপকরণ লিস্ট,বিরিয়ানি কিভাবে রান্না করে

বিরিয়ানি কিভাবে রান্না করে


 

বিরিয়ানি মসলা তৈরি:

মসলা বানানোর পূর্বে সংগ্রহ করে নিন মসলা বানানোর উপকরণ সমূহ:.সরিষা ) বাদাম )নারকেল

)পিয়াজ )আদা )রসুন )জিরা৮)জয়ত্রী

মসলা বানানোর পদ্ধতি সংরক্ষণ দেখে নিন:এই মসলা গুলো একবার বানিয়ে নিবেন ব্যাস বারবার বিরিয়ানি বানিয়ে নিতে পারবেন।স্বাদ কিন্তু হবে বাবুর্চির মত।অনুষ্টানে বাবুর্চিরা এভাবেই মসলা বানিয়ে নেয়।আমি একশ ভাগ নিশ্চুয়তা দিচ্ছি এই বিরিয়ানি হবে বাবুর্চির তৈরি বিরিয়ানির মত। তো এখন জেনে নি মসলা কি করে বানিয়ে নিবেন।বিরিয়ানির মসলা তৈরি:প্রয়োজন হবে একটা ব্লেন্ডার বা পাটা

 )সরিষাবাটা:প্রথম সরিষা নিয়ে নিবেন আপনার প্রয়োজন মত এরপর ব্লেন্ডার বা পাটায় কিছুটা পানি কাচামরিচ একটা লবণ দিয়ে ব্লেন্ড বা বেটে নিবেন।২)বাদাম বাটা:যেকোনো বাদাম পানি দিয়ে একটু বেটে বা ব্লেন্ড করে নিবেন।৩)নারকেল বাটা:নারকেল কুরিয়ে একটু পানি দিয়ে ব্লেন্ড বা বেটে নিবেন। )আদা বাটা:আদাও একই ভাবে পানি দিয়ে ব্লেন্ড করে ফেলবেন।বা পাটায় মিহি করে বেটে নিবেন।৫)রসুন:একই ভাবে রসুন পানি নিয়ে বেটে বা ব্লেন্ড করে। )পিয়াজ;পিয়াজ বেটে নিতে পারেন বা ব্লেন্ড করে নিতে পারেন।৭)জয়ত্রী গুড়া:জয়ত্রী গ্রেন্ডার জারে গ্রেট করে নিতে পারেন।৮)জিরা বাটা:জিরা যদি বাটা ব্যবহার করেন তবে গুড়া বাদ দিতে পারবেন।যদি জিরা পেস্ট বা ব্লেন্ড করা ব্যবহার করা হয় তবে তা ব্লেন্ড বা বাটার সময়ে,খুব সময় নিয়ে তা বাটতে হবে বা যদি তা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করা হয় তবে খুব মিহি করে মানে একদম মিহি করে তা ব্লেন্ড করতে হবে কারণ জিরা মসলা টা ব্লেন্ড হতে বা পাটায় মিহি হতে একটু সময় নেয়। তাই ধীরে সুস্থে সময় নিয়ে তা করতে হবে।বাটা মসলায় টেস্ট টা বেশি থাকে।জিরা বাটা বা ব্লেন্ড ইউজ করলে খেয়াল রাখবেন যেন চিকন জিরার পরিমাণ মিষ্টি জিরার চাইতে বেশি না হয়। আর জিরা বাটা ইউজ করলে গুড়া মসলা যত টুকু দিবেন বিরিয়ানিতে, তার পরিমান এর থেকে অর্ধেক দিবেন।কারণ কি জানেন বাটা মসলা খুব স্ট্রং হয়,বিশেষ করে জিরার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করবেন।আর আপনার যদি  জিরা বাটা ব্যবহার করতে ঝামেলা লাগে বা ফ্লেবার টা ভালো না লাগে তবে আপনি জিরা গুড়া টা ইউজ করবেন।

বিরিয়ানি রেসিপি উপকরণ লিস্ট

 

গ্রেন্ডার জার  না থাকলে চুলায় টেলে পাটায় বেটে নিতে পারেন।চাইলে জয়ত্রী আপনি স্কিপ করতে পারবেন।এখন বলি রসুন পিয়াজ আদা যদি ব্লেন্ডার বা পাটায় ব্লেন্ড বা পেস্ট করতে অসুবিধা মনে হয় সময় সংকুলান না হয় তখন আপনি একটা গ্রেটারে গ্রেট করে নিতে পারবেন, যত টুকু প্রয়োজন হবে।আর যেসব উপকরণ প্রয়োজন হবে:মুরগি বা গরুর বা খাসির মাংস এক কেজি মত,চাল:চা এর কাপ এর পাচ কাপ নাজিরশাইল বা জিরা শাইল খুব ভালো হতে পারে তবে চাইলে আপনারা চিনি গুড়া বা যেকোনো পোলাও এর চাল দিতে পারবেন।,আট থেকে দশ টি কাচামরিচ,এক টেবিল চামচ লাল মরিচ গুড়া,তিন চা চামচ সরিষাবাটা,আড়াই চা চামচ বাদাম বাটা,আড়াই চা চামচ নারকেল বাটা,জিরাগুড়া & ধনিয়া গুড়া এক সাথে তিন চা চামচ যদি  জিরাবাটা দি তবে আড়াই চা চামচ।রাধুনি মাংসের মসলা গুড়া দুই চা চামচ,পিয়াজ বড় সাইজের তিন টি কুচি আর তিন টা পেস্ট, রসুন চার কোয়া পেস্ট করা,আদা দেড় চা চামচ গরুর মাংসের ক্ষেত্রে আরেকটু বাড়িয়ে দিতে হবে।

বিরিয়ানি কিভাবে রান্না করে


ফুটন্ত গরম পানি চাল এর জন্য দশ কাপ তবে পানির পরিমাণ টা চালের শোষণক্ষমতা অনুযায়ী নিতে হবে।চিনি গুড়া চালে জিরাশাইল চালে চালের ডবল পানি দিলে হবে।কিন্তু সিদ্ধ চালে বা হাফ সিদ্ধ চালে ডবল এর চাইতে বেশি পানি লাগবে।এছাড়াও পুরাতন চালে পানি একটু বেশি লাগে।কিন্তু নতুন চাল অনেক কম পানি লাগে।তাই চালের তারতম্য বুঝে পানি দিতে হবে।প্লাস মাংস সিদ্ধ এর জন্য দুই কাপ,আলু ছোট সাইজ এর তিন টি একটু মোটা কিউব করে স্লাইজ করা,গাজর একটি ছোট সাইজ এর:খুব পাতলা করে স্লাইজ করতে হবে,লবণ পরিমাণমত,হলুদ গুড়া দেড় চা চামচ,জয়ত্রী চার ভাগ এর এক ভাগ চা চামচের গুড়া করা,রাধুনি গরম মসলার গুড়া এক চা চামচ,কেওড়া জল এক চা চামচ,জর্দার রং সামান্য এটি অপশনাল দিতে চাইলে দিবেন নইলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই,গোলমরিচ গুড়া চা চামচের চার ভাগের এক ভাগ,আট থেকে দশ টি বড় সাইজের কাচামরিচ ফালি,পাচ ছয়টি আস্ত কাচামরিচ ফ্লেবার এর জন্য,ঘি এক টেবিল চামচ নামানোর আগে দিতে হবে,সামান্য চিনি,হাফ কাপ টক দই,এক কাপ লিকুইড দুধ,পরিমাণমত  কিসমিস পরিমানমত আলু বোখরা,ফ্লেবার এর জন্য পোলাও পাতা ধনিয়াপাতা কুচি, পরিমাণমত লবণ,বড় সাইজ এর একটা পাকা টমেটো কুচি,গুড়াদুধ এক টেবিল চামচ যদি লিকুইড দুধ না থাকে।তেল চা এর কাপে এক কাপ সয়াবিন আর হাফ কাপ থেকে কম সরিষাতেল।

পরিমাণমত খুব সহজে জেনে গেলেন।এবার চলুন আপনার এই বাবুর্চির মত বিরিয়ানির গোপন সহজ রেসিপি টি জেনে নিন:

 

বিরিয়ানি কিভাবে রান্না করে

প্রথমে যদি মুরগীর মাংস দিয়ে বিরিয়ানি করেন, তবে এক কেজি মাংস খুব ভালো করে ছোট পিস করে কেটে হাফ চা চামচ হলুদ এক চা চামচ মরিচ আর এক চা চামচ লবণ মাখিয়ে সামান্য তেলে কোন পানি না দিয়ে মাংস ভেজে নিতে হবে হালকা বাদামি বা লালচে করে।বাবুর্চি রা মুরগির বিরিয়ানি রান্না করার সময় এই কাজ টি অবশ্যই করে থাকেন।আর এই কাজ টি করতে তেল খুব ভালো করে গরম করে মাঝারি হাই হিটে মাংস দিয়ে নেড়েছেড়ে অনবর করে নিতে হবে।এই কাজ টি কিন্তু বিফ বা মাটন বিরিয়ানির বেলায় করার প্রয়োজন নেই কোনরূপ।তবে হ্যাঁ মাটন বিরিয়ানির ক্ষেত্রে মাটন গুলা সামান্য লেবুর রস হলুদ লবণ মাখিয়ে মেরিনেশন করব আধ ঘন্টা এতে মাংসের যে একটা বাজে স্মেল থাকে তা চলে যাবে।

এরপর চুলায় পরিমাণ মত তেল দিয়ে গরম হলে তিন টা তেজপাতা, পাচ ছয়টি এলাচ সাত আট টি লং দুই পিস দারচিনি একটা ইস্টার ইনিংস&কাবাব চিনি ভালো করে সটে নিব।মাটন এর বিরিয়ানির বেলায় অবশ্যই কাবাব চিনি স্টার ইনিংস দিতে হবে।এরপর পিয়াজু কুচি আদা রসুন বাটা একে একে সকল মসলা দিয়ে দিব মরিচ গুড়া জিরা ধনিয়া গুড়া, হলুদ গুড়া রাধুনি মাংসের মসলা, গরম মসলা গুড়া,লবণ,জয়ত্রী গুড়া, কাচামরিচ ফালি,গোলমরিচ গুড়া,টক দই,সরিষা বাটা, বাদাম বাটা,নারকেল বাটা,জিরা বাটা,সব মসলা কসিয়ে তেল উঠে গেলে ভেজে রাখা মুরগির মাংস দিব।তবে গরুর মাংস বা ছাগলের মাংস এর বিরিয়ানি হলে মাংসের সাথে সব বাটা এবং গুড়া মসলা মাখিয়ে সরাসরি তেলে দিব।মাংস কিছুটা পানি বের হয়ে তেল উঠলে আলু গাজর কুচি দিয়ে সব টা ৬০%মত সিদ্ধ হলে ধুয়ে রাখা চাল দিয়ে খুব ভালো করে লো আচে ভেজে নিয়ে ফুটন্ত গরম পানি এবং লিকুইড দুধ দিয়ে দিব।এই সময়ে লবণ চেক করে নিব আর সামান্য ফুড কালার দিব যদি ইচ্ছে হয় বা হাতের কাছে থাকে।আচ মাঝারি হাই তে রাখব এবং ঢেকে দিব।পানি যখন টগবগ করে ফুটতে শুরু হবে দিয়ে দিব আস্ত কাচামরিচ আর টমেটো ফালি। পানি যখন গায়ে গায়ে হবে আচ লো করে দিয়ে, দিয়ে দিব ঘি,চিনি,কেওড়া জল পোলাও পাতা ধনিয়াপাতা কুচি,যদি লিকুইড দুধ না দি তবে গুড়া দুধ  দিব।এরপর আবারো সব মিশিয়ে ঢেকে অপেক্ষা করব দশ মিনিট।

 দশ মিনিট পর ভাত ফুটে এলে নামিয়ে নিব।যদি আপনি নন স্টিক ফ্রাই প্যান ইউজ না করে পাতলা তলা যুক্ত হাড়ি ইউজ করেন,তবে বিরিয়ানি দমে দেওয়ার সময় একটা তাওয়া বসিয়ে দিবেন।এতে ভাত তলানিতে লেগে পুড়ে যাবেনা।আর ভাত যদি বেশি চাল থাকে তবে একটা পরিস্কার পলিথিন ভাতের উপর দিয়ে আচ লো করে দিয়ে অপেক্ষা করবেন। ভাত ফুটে এলে চুলা বন্ধ করে অপেক্ষা করুন পনের থেকে বিশ মিনিট এই সময় টাতে একবারো ঢাকনা খুলবেন না।এরপর নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন আপনার পচ্ছন্দের কাচামরিচ কুচি টমেটো কুচি, লেবুর স্লাইজ শসা কুচি স্লাইজ করা পিয়াজ বা গাজর ধনিয়াপাতা কুচি দিয়ে।চাইলেএসব উপকরণ এর সাথে  সরিষা তেল লবণ মাখিয়ে জোশ একটা সালাদ দিয়ে আহার করুন ঘরে বানানো খুব মজাদার এই বিরিয়ানিটি।তবে বিরিয়ানি টি আমার আম্মুর রেসিপি তে।যার পুরা কৃতিত্ব আম্মুর।আর হ্যাঁ এই বিরিয়ানিটি আপনি যেকোনো সময় বানাতে পারবেন।জাস্ট ব্লেন্ডার এর সুইচ টা অন করুন আর একবার এই মসলা গুলা বানিয়ে বক্স করে ডিপে রাখুন।যেদিন বিরিয়ানি বানাবেন তার চার ঘন্টা আগে জাস্ট মসলা ফ্রিজ থেকে নামাবেন।দোকানেও যেতে হচ্ছেনা।আর এই মসলা দিয়ে বিরিয়ানি বানিয়ে দেখবেন স্বাদ টা কিন্তু প্যাকেট মসলার বিরিয়ানির চাইতে দশ গুণ বেশি হবে ইন শা আল্লাহ। তখন কার দিনের মা খালা দাদি নানির হাতের রান্নার টেস্ট টা পাবেন।কারণ তারা কোন রেডমিট ব্র্যান্ড এর মসলা নয় তারা এভাবে পাটায় বানিয়ে নিত সব মসলা।আর এখন ব্লেন্ডার জার এসে গেছে আপনি খুব সহজেই মসলা বানিয়ে খুব সহজে আপনার রান্নায় আনতে পারবেন ভিন্নতা আর সুস্বাদ।তাই দেরি না করে আজ বানিয়ে নিন।আর আমাদের সাথে থাকুন।আমাদের জন্য দোয়া করবেন।ভালো থাকুন সুস্থ খাবার তৈরি করুন বাসায় বানানো মসলা দিয়ে।আর আপনজন কে সুস্থ আর খুশি রাখুন এরকম একটা ইয়াম্মি বিরিয়ানি খাইয়ে।

 

إرسال تعليق (0)
أحدث أقدم